প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৫, ২০২৬, ৫:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২১, ২০২৫, ৯:১৫ পি.এম
পতেঙ্গা সৈকত উন্নয়নে আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া

অলিউল্লাহ খান , বিশেষ প্রতিনিধি,চট্রগ্রাম।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে নেয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা। আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে আজ বুধবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনটি সরকারি সংস্থার সমন্বিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের যৌথ এই বৈঠক সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সৈকত এলাকার ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ট্যুরিস্ট পুলিশকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল পতেঙ্গা সৈকত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা সৈকতের অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতা, অতিমূল্য এবং পর্যটক হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ঘোষণা দেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা এবং এটিকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ঈদুল আজহার আগে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে আমাদের এই অভিযান কারো জীবিকা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং এমন পরিবেশ গড়তে চাই, যেখানে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারবেন, আর স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।”ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধনমূলক ল্যান্ডস্কেপিং, আলোকায়ন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বসার স্থান তৈরি, নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশ গেট নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ। এসব কাজ স্বল্পমেয়াদে সৈকতের চেহারা বদলে দিলেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার অভাবে সুফল স্থায়ী হয়নি।
এদিকে, সৈকত এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এসব দোকান পর্যটকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং অতিমূল্য আদায় ও হয়রানির অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দোকানগুলো বসে যায়। এই অসংগঠিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও টেকসই সমাধানে আজকের বৈঠকে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, “পতেঙ্গা সৈকত এখন জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনকে ছেড়ে দিয়েছি। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি বিষয়গুলো দেখবে। মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি এক কিলোমিটার এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন, দোকান সরানো, পরিষ্কার রাখা ও আলোকায়নের ব্যবস্থা করবেন। সিডিএর অধীনে সৈকত তিন মাস ছিল, এ সময়ের খরচগুলো চসিককে ফেরত দিতে হবে।”
পতেঙ্গা সৈকতের উন্নয়নে আজকের বৈঠককে সংশ্লিষ্ট মহল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছে। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে পতেঙ্গা হতে পারে চট্টগ্রামের অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্পট।
কপিরাইট@২০২৩ দৈনিক প্রথম বাংলা। সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত