
আনিসুর রহমান,সোনারগাঁ নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বহালের দাবিতে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাদ আসর সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে দাড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রতীক বরাদ্দের শেষ দিনে রাজনৈতিক জোটগত সিদ্ধান্তে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি শরিক দল খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে কর্মী-সমর্থকদের বাধার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন সময়মতো জমা না পড়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। ফলে প্রার্থীতা বহাল থাকে এবং দাড়িপাল্লা প্রতীকও চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন।
এতে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন প্রার্থী নিজে। এমনকি ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হলেও কর্মী-সমর্থকদের প্রচার চালাতে নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা জানতে পেয়েছি, প্রতীক বরাদ্দের পরও ব্যালট পেপারে দাড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেকোনো অবস্থায় যেন ব্যালটে দাড়িপাল্লা প্রতীক বহাল থাকে।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, হঠকারী সিদ্ধান্ত পরিহার করে ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিন। সোনারগাঁয়ের মানুষের পরিবর্তনের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।
ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আপনি আমাদের সঙ্গে যে অঙ্গীকার করেছেন, তা ভঙ্গ করবেন না। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সোনারগাঁয়ের উন্নয়নে কাজ করুন। দল না থাকলেও আমরা আপনার পাশে থাকবো।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জামায়াতের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।