
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
আজ রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। অতীত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ভুলনীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি তৈরি করা হয়েছিল।
সবকিছু মিলিয়ে দেশ একটি বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের খরচ বেড়েছে এবং সরকারকে অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারব।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বস্তির দিকে আসবে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষে ব্যাপকভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এ জন্য কূপ খনন করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ চলছে। এর মধ্যে তিনটি কূপের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সোলার বিদ্যুৎ যুক্ত হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। একই সঙ্গে আমদানি করা বিদ্যুতের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়, সেখানেও সাশ্রয় হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমস্যার সমাধান হবে বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
জুলাইয়ের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যে গণহত্যা চলেছে, তাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এর বিচার সম্পন্ন করতে হবে। আমরা মনে করি, ব্যক্তির যেমন বিচার হওয়া দরকার, তেমনিভাবে দলেরও বিচার হওয়া দরকার।
সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম বলেছেন, চলমান গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সমস্যা রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।